
লোহাগাড়ায় সড়ক রক্ষায় গণমাধ্যমকর্মী সাইফুলের উদ্যোগ, সর্বস্তরের প্রশংসা
লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় সবেমাত্র নবনির্মিত একটি সড়ক অবৈধ যানবাহন ও দখলদারদের থাবায় ধ্বংসের মুখে পড়েছে। লোহাগাড়া উপজেলার তুলাতলী, কালু আমিন সিকদার পাড়া, উত্তর আমিরাবাদ চট্টলাপাড়া, পালপাড়া ও চৌরাস্তা মাথা এলাকার ‘ বাবে দরবারে গারাংগিয়া সড়ক’টি নির্মাণের কয়েক মাসের মধ্যেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত গারাংগিয়া সড়কটি স্থানীয় হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সম্প্রতি প্রায় ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির কার্পেটিং কাজ সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু সড়কটি চালুর পর থেকেই শুরু হয় কতিপয় অসাধু চক্রের তাণ্ডব।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটির কার্পেটিং শেষ হতে না হতেই পার্শ্ববর্তী ইটভাটা থেকে ৩০ টনেরও বেশি ধারণক্ষমতার ভারী ড্রাম্প ট্রাক ও ইটবাহী ট্রাক নিয়মিত যাতায়াত করছে। অতিরিক্ত ওজন বহনে অক্ষম গ্রামীণ এই সড়কটিতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও মারাত্মক ভাঙন দেখা দিয়েছে।
শুধু ভারী যানবাহনই নয়, রাস্তার দুই পাশ অবৈধভাবে দখল করে রাখা হয়েছে। স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন এলাকা থেকে কাটা গাছের গুঁড়ি (টুঁরা) এনে রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখায় সড়কটি অত্যন্ত সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। এসব কাঠ ট্রাকে ওঠানো-নামানোর সময় সড়কের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া, আন্তঃজেলা বিভিন্ন এলাকা থেকে ১০ চাকার ইন্দিয়ান টাটা গাড়িতে করে অতিরিক্ত বালু পরিবহনের ফলে রাস্তার ভাঙন আরও তীব্র রূপ নিয়েছে।
ভারী যানবাহনের হাইড্রোলিক হর্নের তাণ্ডবে পুরো এলাকায় তৈরি হয়েছে মারাত্মক শব্দদূষণ। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, সাধারণ পথচারী এবং ছোট যানবাহনের চালকেরা। প্রতিনিয়ত ঘটার আশঙ্কায় রয়েছে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
এ বিষয়ে এলাকা বাসীর পক্ষে গণমাধ্যমকর্মী “সাইফুল ইসলাম” গত ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং তারিখে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি অতি দ্রুত সরজমিনে তদন্তপূর্বক গারাংগিয়া সড়কে ইটভাটার অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধসহ রাস্তার দুই পাশ দখলমুক্ত করে যাতায়াতের উপযোগী করার আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, *”সরকারি অর্থ ও জনগণের ট্যাক্সের টাকায় নির্মিত সড়ক কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে ধ্বংস করতে দেওয়া হবে না। যারা ৯০ লাখ টাকার কার্পেটিং করা গ্রামীণ সড়কে ৩০ টনের ভারী ট্রাক চালিয়ে তা ধ্বংস করছে এবং রাস্তার দুই পাশে গাছের গুঁড়ি রেখে জনচলাচল বাধাগ্রস্ত করছে, তারা আইনত অপরাধ করছে। সরকারি সম্পদ নষ্টকারী এবং অবৈধ দখলদারদের কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এলাকাবাসীর একটাই প্রশ্ন— ৯০ লাখ টাকার সরকারি সম্পদ এভাবে নষ্ট হতে দেখেও প্রশাসন কেন চুপ? দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়রা।