শাহ মজিদিয়া আখতারুল উলুম মাদ্রাসায় পালিত হল জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস
লোহাগাড়া চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শাহ মজিদিয়া আখতারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় আজ ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ পালিত হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকারের পতনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে মাদ্রাসা অডিটোরিয়ামে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা সৈয়দ আবদুল ওয়াহিদের সঞ্চালনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় সুধীজনদের উপস্থিতিতে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ ও দুআ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সকালে মাদ্রাসা চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়।
পরবর্তীতে মাদ্রাসার অডিটোরিয়ামে "বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা" শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তারা ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত আন্দোলনে ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব বীরত্ব ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। বিশেষ করে আন্দোলনে মাদ্রাসা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বলিষ্ঠ ভূমিকা ও বীরত্বগাথার কথা আলোচনায় উঠে আসে।
মাদ্রাসার প্রধান বক্তা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জনাব নুরুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক জাগরণ। শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। তাদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে নতুন প্রজন্মকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে।"
অনুষ্ঠানের সভাপতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জনাব অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন সরকার তাঁর বক্তব্যে বলেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল প্রত্যাশা ছিল একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। ছাত্র-জনতার এই ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর সাধারণ মানুষের প্রধান চাওয়া হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, যুবকদের কর্মসংস্থান, এবং রাষ্ট্রীয় সব অঙ্গনে সুশাসন নিশ্চিত করা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার কাজে শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া সকল ছাত্র-জনতার রুহের মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা নিশ্চিত করতে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মোনাজাতে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও দেশবাসীর ঐক্য কামনা করা হয়।
দুআ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মাওলানা হাসান, জনাব ইউসুফ, জানে আলম কালু, ফজলুল হক, শিক্ষক প্রতিনিধি মাওলানা আজিজ উদ্দিন ও মাওলানা মহিউদ্দিন, অভিভাবক সদস্য হামিদ হোসেন প্রমুখ।