পাহাড়ে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে সূর্যমুখি ফুল
কমল কৃষ্ণ দে
মাটিরাঙ্গা (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা
ঋতুরাজ বসন্তের শুরুতেই পাহাড়ের ঢালে ও বিস্তৃত ফসলি মাঠে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য সূর্যমুখী ফুলের হলুদের সমারোহ যে কারো নজর কাড়বে। কম খরচে অধিক লাভে সূর্যমুখী চাষ পাহাড়ের কৃষকরা যেমন লাভবান হবে তেমনি গ্রামীন অর্থনীতিতে ও গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা রাখতে পারে।
ষঢ়ঋতুর দেশ আমাদের বাংলাদেশ। ঋতু চক্রের আবর্তে এখন বসন্ত কাল।
প্রকৃতি নতুন রূপে সাজে ফুটে ওঠে নানা রঙের ফুল । কোকিলের কুহুতান আর মৃদু সমীরনে ভেসে আসে ফুলের সৌরভ। আধো আধো শীত গরমে আলো-ছায়ার খেলায় চারিদিক ভরে উঠে ফুলর পাপড়িতে। প্রকৃতির এই রঙিন পরিবর্তনে পাহাড় জেগে উঠে নব যৌবনে।
সূর্যমুখী মূলত একটি তেলবীজ উৎপাদন কারী ফসল। যা উচ্চমানের ভোজ্য তেল পাখির খাদ্য ও শোভা বর্ধনের জন্য চাষ করা হয়। এটি উজ্জ্বল হলুদ বর্ণের বড় একবর্ষী ফুলগাছ । কচি সূর্যমুখী গাছ সূর্যকে অনুসরণ করে পূর্ব থেকে পশ্চিমে ঘোরে এবং রাতে আবার পূর্ব দিকে মুখ করে অবস্থান করে।
এটি একক ফুল নয় ,বরং একটি পুষ্পমঞ্জরী, যেখানে ২০০০-এর বেশি ছোট ছোট ফুল একসাথে একটি বড় মাথা তৈরি করে । সমতলের সাথে পাল্লা দিয়ে পাহাড়ের কৃষি অর্থনীতিতে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে সূর্যমুখি ফুল।
খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি সস্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলার ৯টি উপজেলায় ৩৬ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। যা গত বছর ছিল ৩৬ হেক্টর। চলতি বছরে ৩০০ জন কৃষককে টাটা কোম্পানির হাইব্রিড টিএসএফ-২৭৫ জাতের সূর্যমুখী বীজ ও প্রয়োজনীয় সার সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
মাটিরাঙ্গা,দীঘিনালা ও জেলা সদরে সব চেয়ে বেশি সূর্যমুখি চাষ করা হয়েছে।
মাটিরাঙ্গা সাপমারা একার কৃষক কেশর রঞ্জন ত্রিপুরা জানান, তিনি কৃষি অফিসের সহয়তা ও নির্দেনা মোতাবেক প্রথম ৪০ শতক জমিতে সূর্যমুখি চাষ করেছেন। ৪বার সেচ দেয়া হয়েছে।
এতে মোট খরচ হয়েছে ৬ হাজার টাকা। ফলন ভালো হয়েছে। সব ঠিক থাকলে ১০ মনের মত ফলন পাওয়ার আশা করেণ তিনি।
নতুন পাড়া এলাকার কৃষানি অঞ্জনা ত্রিপুরা জানান, এক বিঘা জমিতে সূর্যমুখী আবাদে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। ফলনও খুব ভালো হয়েছে। তার এমন সাফলতা দেখে আশপাশের কৃষকরাও সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। প্রতি বিঘায় ৮ থেকে ১০ মণ ফলনের আশা করছেন। । সরকারী সহায়তা পেলে আগামীতে আরো বেশী সূর্যমুখীর আবাদ করবেন বলে জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. সেলিম রানা জানান বলেন,পাহাড়ি অঞ্চলে বিকল্প তেলবীজ ফসল হিসেবে সূর্যমুখী চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।আগামীতে এটি স্থানীয় ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন তিনি।
খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি উপ পরিচালক নাছির উদ্দিন চৌধুরী জানান,পাহাড়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু অনুকুলে হওয়াঢ সূর্যমুখি চাষে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এলক্ষে জেলার কৃষকদের বীজ সহায়তা ও প্রনোদনা সহ বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে এবং কৃষকরাও চাষে আগ্রহী হচ্ছে। এতে এক দিকে ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণ হবে এবং অন্য দিকে গ্রামীন অর্থনীতিতে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।